ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদস্বাস্থ্য নিয়ে কেন সতর্ক থাকা জরুরি?

ডায়াবেটিস কেবল রক্তের শর্করার সমস্যা নয়; এটি শরীরের রক্ত সংবহনতন্ত্রের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় দুই থেকে চার গুণ বেশি।
শর্করা কীভাবে রক্তনালীর ক্ষতি করে?
রক্তে অতিরিক্ত শর্করা দীর্ঘ সময় থাকলে তা রক্তনালীর ভেতরের দেয়াল (Endothelium)-কে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর ফলে রক্তনালীতে চর্বি ও কোলেস্টেরল সহজে জমাট বাঁধে (Atherosclerosis)। রক্তনালী সরু ও শক্ত হয়ে যাওয়ায় হার্টে রক্ত সরবরাহ কমে যায় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
ডায়াবেটিস রোগীদের 'নীরব হার্ট অ্যাটাক' (Silent Heart Attack):
ডায়াবেটিসের কারণে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি (Diabetic Neuropathy) হতে পারে। এর ফলে অনেক ডায়াবেটিস রোগী কোনো প্রকার বুকে ব্যথা ছাড়াই হার্ট অ্যাটাক অনুভব করতে পারেন—কেবলমাত্র অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট বা বুক ধড়ফড় করার মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়। একে নীরব হার্ট অ্যাটাক বলা হয়।
হৃদস্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়:
১. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা: HbA1c মাত্রা সর্বদা ৭% এর নিচে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।
২. রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা: ডায়াবেটিস রোগীর রক্তচাপ ১৩০/৮০ mmHg এর মধ্যে রাখা বাঞ্ছনীয়। প্রতি ৬ মাসে একবার লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করান।
৩. হৃদবান্ধব খাবার: অতিরিক্ত লবণ, ট্রান্স ফ্যাট এবং অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার বাদ দিন। খাবারে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, রঙিন শাকসবজি ও বাদাম রাখুন।
৪. ধূমপান সম্পূর্ণ বর্জন: ধূমপান ও ডায়াবেটিস একসাথে হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে ডায়াবেটিসের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের প্রতি নিয়মিত যত্নবান হওয়া আবশ্যক।
